প্রশ্নোত্তর

আমাদের কার্যক্রম বুঝতে এই অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

০১কিভাবে শুরু হলো ‘দান নয়, ধার’ কার্যক্রম?
করোনাকালে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের কিছু মানবহিতৈষী শিক্ষার্থী হঠাৎ বিপদে পড়া ছোট ভাই-বোনদের আর্থিক সহযোগিতা করছিলেন। প্রতিষ্ঠাতা লক্ষ্য করেন, সাহায্য গ্রহণে অনেকেই বিব্রত হন। তাঁর ভাবনা ছিল — দান বা সহযোগিতা না করে যদি একই টাকা ধার দেওয়া হয়, তাহলে সেই একই টাকায় একজনের পরিবর্তে সারাজীবন আরও অনেক শিক্ষার্থীকে হঠাৎ আসা বিপদ থেকে উদ্ধার করা যাবে। পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ জন শিক্ষার্থী ২,২৬,০০০ টাকা দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেন।
০২‘দান নয়, ধার’ কার্যক্রমের প্রধান উদ্যোক্তা কে?
মোঃ রকিবুল হোসেন — জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (২৮তম ব্যাচ) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম ব্যাচের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। জন্মস্থান টাঙ্গাইল, বর্তমান বাসস্থান কলাবাগান, ঢাকা। তিনি ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট ও ট্রেইনার, CQS হিসেবে কাজ করেন এবং ২০১২ সালে Centre for Quality Solution (CQS) প্রতিষ্ঠা করেছেন।
০৩‘প্রতিষ্ঠাতা কন্ট্রিবিউটর’ কারা?
যাঁরা একদম শূন্য জায়গা থেকে অর্থ সহযোগিতা দিয়ে এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করেছেন, সেই ৩৩ জন কন্ট্রিবিউটরকে আমরা বলি ‘প্রতিষ্ঠাতা কন্ট্রিবিউটর’। তাঁদের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এই ওয়েবসাইটে সকলের নাম ও পদবি উল্লেখ আছে।
০৪কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো অফিস আছে কি?
বর্তমানে ‘দান নয়, ধার’ এর নিজস্ব কোনো অফিস নেই। প্রতিষ্ঠাতার বাসভবন আপাতত অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সকল কার্যক্রম অনলাইনে হওয়ায় বর্তমানে অফিসের প্রয়োজন হয় না।
০৫ফান্ড কিভাবে সংগ্রহ করা হয়?
ফান্ড পরিচালিত হয় পূর্বনির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন ব্রাঞ্চের মাধ্যমে। প্রতিটি ব্রাঞ্চের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ তাঁদের সাধ্যমতো টাকা ধার বা ডোনেশন হিসেবে দিয়ে থাকেন। পরিচালকরা সরাসরি ফেইসবুক প্রচারণার মাধ্যমেও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে ফান্ড সংগ্রহ করেন।
০৬কারা ধার নিতে পারেন?
‘দান নয়, ধার’ মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ সুদমুক্ত একটি ঋণ কার্যক্রম। ধনী-গরীব, মেধাবী বা কম মেধাবী, ধর্ম বা গোত্র বিবেচনা ছাড়াই যেকোনো শিক্ষার্থী ধার নিতে পারেন। তবে নেশাগ্রস্ত বা কোনো অপরাধে যুক্ত কাউকে ধার প্রদান করা হয় না।
০৭কোন কোন খাতে ধার প্রদান করা হয়?
মোবাইল ক্রয়, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ক্রয়, সাইকেল ক্রয়, GRE/IELTS/TOEFL কোর্স, টিউশনি সহায়তা, চাকরির আবেদন, পড়াশোনার বই, চিকিৎসা খরচ, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়া, পারিবারিক অসচ্ছলতা, পিতামাতার চিকিৎসা, এবং পড়াশোনা চালিয়ে নিতে ছোটখাটো ব্যবসায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা।
০৮ধার কিভাবে অনুমোদন ও প্রদান করা হয়?
আবেদনকারীকে এই ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্রাঞ্চের ধার অনুমোদনকারী শিক্ষক বা অনুমোদিত প্রতিনিধি আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করেন এবং তিনি প্রতিশ্রুতি রাখতে ও ধার পরিশোধে সক্ষম কিনা তা দেখেন। অনুমোদন হলে চেক বা বিকাশের মাধ্যমে ধার প্রদান করা হয়।
০৯ধার পরিশোধের জন্য কত সময় দেওয়া হয়?
ধার পরিশোধের সময়সীমা ধারগ্রহীতার সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয়। সাধারণত ৩ মাস থেকে ৬ মাস পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
১০ধার পরিশোধে ব্যর্থ হলে কী হয়?
‘দান নয়, ধার’ সাধারণত এমন কাউকে ধার প্রদান করে না যিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন বা পরিশোধে সক্ষম নন। ব্যর্থ হলে তাঁকে বারবার সতর্ক করা হয়। কেউ সম্পূর্ণ অক্ষম হলে কমিটিতে আলোচনা সাপেক্ষে বিবেচনা করা হয়।
১১জামানত বা গ্যারান্টর প্রয়োজন আছে কি?
না। ‘দান নয়, ধার’ থেকে ধার নিতে কোনো রকম জামানত বা গ্যারান্টর প্রয়োজন হয় না, কোনো সার্টিফিকেট জমা নেওয়া হয় না। ধারগ্রহীতার প্রতিশ্রুতিই আমাদের একমাত্র অবলম্বন।
১২ধারগ্রহীতার আর্থিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া হয় কি?
ধারগ্রহীতা বা তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন — দরিদ্র, মেধাবী বা যে কেউ — প্রয়োজনে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ধার নিতে পারেন।
১৩কন্ট্রিবিউটররা নিজেরা ধার নিতে পারবেন কি?
অবশ্যই। ধার বা ডোনেশন প্রদানকারীরা নিজেদের প্রয়োজনেও ধার নিতে পারবেন। চাইলে ফান্ড পর্যাপ্ত থাকা সাপেক্ষে নিজেদের দেওয়া ধার ফেরতও নিতে পারবেন।
১৪ফান্ডের টাকা কোথায় জমা থাকে?
সকল অর্থ অগ্রণী ব্যাংক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় রক্ষিত। অ্যাকাউন্ট নাম: দান নয়-ধার, অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২-০০০২০৩২১৬৪৯, সুইফট কোড AGBKBDDH, রাউটিং নম্বর 010262267। অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান এবং মোঃ রকিবুল হোসেন।
১৫হিসাবের স্বচ্ছতা কিভাবে নিশ্চিত করা হয়?
কন্ট্রিবিউটরদের ছবি, নাম, পদবি ও টাকার পরিমাণসহ বিস্তারিত ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকে; স্পন্সর কোম্পানিগুলোর বিস্তারিতও প্রকাশ করা হয়। সবকিছু স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত এবং ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া কোনো পরিচালন ব্যয় নেই। সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব ওয়েবসাইটে হালনাগাদ রাখা হয়।
১৬ধার প্রদানকারীরা কিভাবে টাকা ফেরত পাবেন?
ফান্ড পর্যাপ্ত থাকা সাপেক্ষে যেকোনো সময় ধারের টাকা ফেরত নেওয়া যাবে। তবে এক বছরের পূর্বে ফেরত নিলে ওয়েবসাইটে তাঁর কোনো ডাটা সংরক্ষণ করা হয় না। এক বছর পর ফেরত নিলে সম্মানসূচক ক্রেডিট দেওয়া হয়। ডোনেশনের অর্থ ফেরতযোগ্য নয়।
১৭জাবি’র বাইরে এই কার্যক্রম আছে কি?
এই মুহূর্তে জাবি’র বাইরে ‘দান নয়, ধার’ ফান্ডের কোনো কার্যক্রম নেই। তবে ফান্ড প্রাপ্তির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাঞ্চ খোলা হবে ইনশাআল্লাহ।
১৮পরিচালন ব্যয় কিভাবে বহন করা হয়?
ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো প্রকার পরিচালন ব্যয় নেই। সবকিছু স্বেচ্ছাশ্রমে করা হয় এবং এই সামান্য ব্যয় ডোনেশন বা কোম্পানি স্পন্সরের অর্থ থেকে বহন করা হয়।
১৯ফান্ডের টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয় কি?
না। এই মুহূর্তে ‘দান নয়, ধার’ তহবিলের কোনো টাকা অন্য কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয় না। ভবিষ্যতে জমার পরিমাণ অনেক বেড়ে অর্থ অলস পড়ে থাকলে পরিচালনা পর্ষদের সম্মতিতে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ বিবেচনা হতে পারে, তবে এর সম্ভাবনা খুবই কম।
২০যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে কি?
যাকাতের কোনো অর্থ ‘দান নয়, ধার’ গ্রহণ করে না। যেহেতু আপনি ধার দিচ্ছেন এবং তা ফেরতযোগ্য, তাই যাকাতের টাকা এই ফান্ডে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে ডোনেশন গ্রহণযোগ্য — ইসলামে ধার প্রদানও একধরনের ইবাদত বা সওয়াবের কাজ।
২১ফান্ডের টাকা এফডিআর বা সুদ আসে এমন স্থানে রাখা হয় কি?
না। ‘দান নয়, ধার’ ফান্ডের জমাকৃত টাকা মুনাফা বা লাভের আশায় এফডিআর বা সুদ আসে এমন স্থানে কখনোই জমা করা হবে না।
২২ফান্ডের অর্থ অন্য দাতব্য কাজে ব্যবহার হয় কি?
না। ‘দান নয়, ধার’ ফান্ডের অর্থ দান, বৃত্তি প্রদান বা অন্য কোনো দাতব্য কাজে ব্যবহার করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনা নিলে তা সম্পূর্ণ আলাদা ফান্ড সংগ্রহ করে করা হবে।
২৩পরিচালনা কমিটিতে কারা আছেন, সিদ্ধান্ত কিভাবে হয়?
বর্তমানে সকল পরিকল্পনা, ফান্ড সংগ্রহ ও ধার প্রদান প্রতিষ্ঠাতা মোঃ রকিবুল হোসেনের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে পরিচালিত। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান ও প্রতিষ্ঠাতার যৌথ নামে পরিচালিত। ভবিষ্যতে সেরা কন্ট্রিবিউটরদের নিয়ে একটি পরিচালক কমিটি গঠন করা হবে।
২৪আমি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।
সামান্য পরিমাণ অর্থ (কমপক্ষে এক হাজার টাকা) অনুদান বা ধার হিসেবে রেখে ওয়েবসাইটে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে একটি আইডি নিতে হবে। তারপর কী কাজ করতে পারবেন ও কখন সময় দিতে পারবেন তা বর্তমান পরিচালকদের সাথে আলোচনা করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হতে পারবেন।
২৫আমি একটি নতুন শাখা খুলতে চাই।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে বা ছাত্রকল্যাণ সমিতির অধীনে ‘দান নয়, ধার’ এর শাখা খোলা যায়। শাখা খুলতে চাইলে বর্তমান পরিচালকদের সাথে আলোচনা করতে হবে; একজন স্বেচ্ছাসেবক আপনাকে সবকিছু বুঝিয়ে দেবেন।
২৬আমি ধার, ডোনেশন বা স্পন্সর দিতে চাই।
সরাসরি এই নম্বরে ফোন করুন — ০১৩২০-৩০০-৫৫৫। ‘দান নয়, ধার’ এর ফেইসবুক পেইজেও বার্তা পাঠাতে পারেন।
২৭আমি ধার নিতে চাই, কী করতে হবে?
এই ওয়েবসাইটের আবেদন ফরম বা মোবাইল অ্যাপ থেকে আবেদন করুন। নাম, বিভাগ, ব্যাচ, রোল, হল, মোবাইল, ইমেইল, ঠিকানা, প্রত্যাশিত ধার, উদ্দেশ্য ও পরিশোধ পরিকল্পনাসহ তথ্য দিতে হবে। প্রয়োজন যাচাইয়ের পর ক্যাম্পাস কোঅর্ডিনেটর বা পরিচিত কারও মাধ্যমে ভেরিফাই করা হয় — শুধু দেখা হয় আবেদনকারী নেশাগ্রস্ত বা কোনো অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত কিনা। অনুমোদন পেলে চেক বা বিকাশের মাধ্যমে ধার দেওয়া হয়।
২৮কারা ধার অনুমোদন করেন, তাঁরা সম্মানী পান কি?
প্রতিটি ব্রাঞ্চে ধার অনুমোদনের জন্য একজন শিক্ষক বা এমন একজন প্রতিনিধি থাকবেন যিনি সবাইকে চেনেন ও জানেন। কোনো স্যালারি বা সম্মানী দেওয়া হয় না।
২৯ধারগ্রহীতার ছবি বা নাম প্রকাশ করা হয় না — কন্ট্রিবিউটররা কিভাবে নিশ্চিত হবেন?
ওয়েবসাইটে ধারগ্রহীতার নাম প্রকাশ ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে। তবে ১০ হাজার টাকার উপরে অনুদান করেছেন এমন যেকেউ যেকোনো সময় ‘দান নয়, ধার’ এর অফিসে এসে সকল তথ্যে অ্যাক্সেস নিতে পারবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে যেকেউ এই সুযোগ নিতে পারবেন।
৩০জামানত ছাড়া টাকা ফেরত আসবে — এমন আস্থা কোথা থেকে আসে?
এই কার্যক্রমের সফলতা নির্ভর করে তিনটি কাজের উপর — ফান্ড বৃদ্ধি, সঠিক শিক্ষার্থী নির্বাচন করে ধার প্রদান, এবং সময়মতো ধারের টাকা ফেরত নিয়ে তা আবার অন্য শিক্ষার্থীকে প্রদান করা। অভিজ্ঞতা বলে, রিমাইন্ডার দিলে ৮৫% ধারগ্রহীতা খুব সহজেই টাকা পরিশোধ করেন। তিন বছরে ২,২৬,০০০ টাকার মূলধন দিয়ে মোট ৪,৭০,৫০০ টাকা ধার দেওয়া সম্ভব হয়েছে — অর্থাৎ মূল টাকা দুইবার ঘুরে এসেছে।