দান নয়, ধার
অভাব থাকা সত্ত্বেও দান গ্রহণ করা সকলের পক্ষে সহজ নয়। কিন্তু ধার গ্রহণ সহজ — এতে বিব্রত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একজনের ধার ফেরত এলে তা আবার আরেকজনকে দিয়ে সহযোগিতা করা যায়।
যাঁরা ধার ফেরত দেননি
ধার নেওয়ার শর্তের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, টানা দুই কিস্তি না দিলে বা যোগাযোগ বন্ধ করলে নাম প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি নাম আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে দেওয়া হয়েছে।
লোড হচ্ছে…
আমাদের কথা
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আকস্মিক অর্থনৈতিক সংকটে টাকা ধার দিয়ে সাময়িক সহযোগিতা করার জন্য স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘‘দান নয়-ধার”।
বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে এই কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। ‘‘দান নয়-ধার” এর মূল ধারণাটি হচ্ছে, যাঁরা সাবেক শিক্ষার্থী তাঁরা তাঁদের সাধ্যমতো অর্থ ধার বা ডোনেশন হিসেবে এই ফান্ডে জমা দেবেন এবং সেখান থেকে যাঁদের প্রয়োজন তাঁদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধার প্রদান করা হবে।
অভাব থাকা সত্ত্বেও দান গ্রহণ করা সকলের পক্ষে সহজ নয়। কিন্তু ধার গ্রহণ সহজ, এতে কোনো প্রকার বিব্রত হওয়ার সুযোগ নেই। একজনের ধার ফেরত আসলে তা অন্যজনকে আবার ধার দিয়ে সহযোগিতা করা যায়। এভাবে সামান্য পরিমাণ টাকা দিয়ে অনেক মানুষকে অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়ে সহযোগিতা করা যায়।
করোনার মাঝে অনলাইন ক্লাস চালু হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন কেনার প্রয়োজন হয়। হঠাৎ একসঙ্গে এই টাকা ম্যানেজ করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। অনেক শিক্ষার্থী আছেন যাঁরা একটা ভালোমানের ল্যাপটপ ক্রয় করতে পুরো টাকা ম্যানেজ করতে পারেননি। অনেকে সাইকেল কিনতে চেয়েছেন, অনেকের বাবার চিকিৎসা ব্যয়ে তাৎক্ষণিক অনেক টাকা যোগাড় করতে হয়েছে, অনেকে উচ্চশিক্ষার্থে দেশের বাইরে যেতে সহযোগিতা চেয়েছেন, অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি না থাকায় পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারছিলেন না। শিক্ষার্থীদের এইরকম অনেক প্রয়োজনীয় মুহূর্তে এগিয়ে এসেছে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ‘দান নয়-ধার’।
এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় একদম শূন্য। শতভাগ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যাত্রা শুরু হয় দুই লক্ষ ছাব্বিশ হাজার টাকা দিয়ে।
‘দান নয়-ধার’ এই কার্যক্রম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও কয়েকটি বিভাগে এবং একটি মেডিকেল কলেজে শুরু করতে যাচ্ছি। ধীরে ধীরে স্বেচ্ছাশ্রম ও ফান্ড প্রাপ্তির ভিত্তিতে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইনশাআল্লাহ চালু করা হবে।
পুরো বিষয়টি বুঝতে এই ওয়েবসাইটের সবগুলো লিংক, বিশেষ করে মতামত ও প্রশ্নোত্তর দেখুন এবং আমাদের কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করুন।
আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে ‘দান নয়-ধার’ এর ব্রাঞ্চ চালু করার জন্য আমাদের সাথে কথা বলুন। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই মানবহিতৈষী কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হতে চাইলে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে যোগাযোগ করুন।
‘দান নয়-ধার’ এর হিসাব একাউন্ট
- ব্যাংকের নাম
- অগ্রণী ব্যাংক
- ব্র্যাঞ্চ
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
- একাউন্ট নাম
- দান নয়-ধার
- একাউন্ট নম্বর
- ০২-০০০২০৩২১৬৪৯
- সুইফট কোড
- AGBKBDDH
- রাউটিং নম্বর
- ০১০২৬২২৬৭
কিভাবে কাজ করে
আবেদন করুন
অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে একবার তথ্য দিন। পরের প্রতিটি আবেদনে সেই তথ্যই ব্যবহৃত হবে।
যাচাই ও অনুমোদন
ব্রাঞ্চের স্বেচ্ছাসেবক বা শিক্ষক তথ্য যাচাই করেন। কোনো জামানত বা গ্যারান্টর লাগে না।
ধার ও পরিশোধ
চেক বা বিকাশে টাকা পৌঁছে যায়। সাধারণত ৩–৬ মাসে কিস্তিতে পরিশোধ — কোনো সুদ নেই।
সুদমুক্ত, শতভাগ। যত টাকা নেবেন, ঠিক তত টাকাই ফেরত দেবেন। ফান্ডের অর্থ কখনোই এফডিআর বা সুদ আসে এমন স্থানে রাখা হয় না।